Search
Tuesday 24 October 2017
  • :
  • :
English Version

অবাধ নির্বাচন হলে আ’লীগ ৩০টি আসনও পাবে না

অবাধ নির্বাচন হলে আ’লীগ ৩০টি আসনও পাবে না

Sharing is caring!

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শাসকদলের পক্ষে ৩০টি আসন পাওয়াও দুষ্কর হবে বলে মনে করে বিএনপি। দলটির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, সেজন্য তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনকে এড়িয়ে যেতে চায়।

আজ শুক্রবার শেষ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনকে এড়িয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার বিনাশী পথে অগ্রসর হচ্ছে। তবে একটি অবাধ নির্বাচনে হলে ৩০টি আসন পাওয়াও দুষ্কর হবে। এটি উপলব্ধি করতে পেরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে তারা চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার অলীক স্বপ্ন দেখছে। কারণ তারা জনগণের প্রাণের স্পন্দন দেখতে পাচ্ছে না। স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গি তাদের অন্ধই করেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

রাজধানীয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, শিরিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিপন বলেন, শুধু গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য বিনা ভোটের সরকারের সাথে বিএনপি-নাগরিক সমাজ সংলাপে বসার আগ্রহ দেখিয়েছিলো। ভবিষ্যতের সঙ্কটকে এড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে বিবেচনা করে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব শুধু অগ্রাহ্যই করেনি, এর মধ্যদিয়ে তারা নিজেরাও ঠকিয়েছেন; যা ভবিষ্যতে প্রমাণিত হবে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সরকার বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে- অভিযোগ এনে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি এখন গ্রেফতারের পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেজন্য প্রতিদিনই দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ‘কুরুচিপূর্ণ এবং অরাজনৈতিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন রিপন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার চিরায়ত অভ্যাসে অভ্যস্ত মন্তব্যে তার দল বিব্রত হয় কী-না জানি না, তবে দেশের মানুষ রাজনীতির নামে এ জতীয় বক্তব্যে খুবই অস্বস্তির মধ্যে পড়ে।

তিনি আরো বলেন, শাসকগোষ্ঠী যতই বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সম্পর্কে অশালীন, অরুচিকর মন্তব্য করুন না কেনো- জনগণের কাছে তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। যা বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রমাণিত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামেও যদি আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কারচুপি করা না হতো-তাহলে জনগণ তাদের রায় দিয়ে দেখিয়ে দিতেন। জনগণ যতবার স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পেরেছে, তারা বারবারই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। বিএনপি মনে করে-হিংসাশ্রয়ী-প্রতিশোধস্পৃহায় উজ্জীবিত হয়ে গণতন্ত্রবিনাশী যে আচরণ সরকার করেই যাচ্ছে-তা থেকে সময় থাকতেই শাসক দলের ক্ষান্ত হওয়া উচিৎ।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, তার সহযোগীরাও একই পথ অনুসরণ করেন। কেউ মন্ত্রিত্ব রক্ষা করতে কেউ মন্ত্রীত্ব ফিরে পেতে। যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও রুচিবোধের মধ্যে পড়ে না। বিএনপি যদি এসব মন্তব্যে পাল্টা জবাব দেয়, তাহলে রাজনীতির পরিবেশ আরো কলুষিত হবে। বিএনপি এসব থেকে বিরত থাকে।

সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অত্যাচারে দেশবাসী অতিষ্ঠ; দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এর সাথে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি ও দু:শাসন। শাসকদল যে জনগণ থেকে ক্রমাগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, বিষয়টি তারা উপলব্ধি করতে পারছে। যে কারণে সরকার একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে ভীতির চোখেই দেখছে।

উলফা নেতা অনুপ চোটিয়াকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান জানতে চেয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আজ বলবো না। সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেভাবে অভিমত দেবেন, বলতে বলবেন পরে সেভাবে জানানো হবে।