Search
Tuesday 24 October 2017
  • :
  • :
English Version

‘পাকিস্তান প্রমাণ করল, সাকা-মুজাহিদ ছিলেন তাদের চর’

Sharing is caring!

বাংলাদেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর নিয়ে পাকিস্তান সরকারের আচরণকে ‘দ্বৈতনীতি’ আখ্যা দিয়ে করে এর কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী আসমা জাহাঙ্গীর।

তাকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন লিখেছে, ‘সরকার এই আচরণের মাধ্যমে শুধু এটাই প্রমাণ করল যে, বাংলাদেশে যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তারা আসলে ছিল রাজনৈতিক চর, তারা কাজ করছিল পাকিস্তানের স্বার্থের জন্য।’

সোমবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে সাংবাদিকদের একথা বলেন আসমা জাহাঙ্গীর।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ’ প্রকাশ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন মানবাধিকারকর্মী আসমা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে দেশটির সরকারের আপত্তিকর মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, পাকিস্তান বিবৃতি দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিষ্ঠুর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সরাসরি পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতি এখনই প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

একাত্তরে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শনিবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এরপর দিন রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে আমরা লক্ষ্য করেছি যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা খুবই অসস্তুষ্ট।’

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে এ নিয়ে ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার’ কথাও বলা হয় ওই বিবৃতিতে।

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রথম নারী সভাপতি আসমা জাহাঙ্গীর পাকিস্তান সরকারের সমালোচনায় করে বলেন, ‘ইসলামাবাদের আচরণে এমন ধারণা হওয়া স্বাভাবিক যে নিজেদের নাগরিকের চেয়ে বাংলাদেশের বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য তাদের ভালোবাসা অনেক বেশি।’