Search
Tuesday 24 October 2017
  • :
  • :
English Version

খালেদা-তারেকের নির্দেশনার অপেক্ষায় নেতা-কর্মীরা

খালেদা-তারেকের নির্দেশনার অপেক্ষায় নেতা-কর্মীরা

Sharing is caring!

ডেস্ক রির্পোট :
সর্বশেষ টানা তিন মাসের ‘ব্যর্থ’ আন্দোলনের পর দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান কী ভাবছেন- তা জানার অপেক্ষায় নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি কৌতুহলের শেষ নেই পর্যবেক্ষক মহলেও।

দীর্ঘ দুই মাস ১০ দিন পর দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফেরার দুই দিন পর গতকালই প্রথম গুলশান কার্যালয়ে অফিস করেন তিনি। লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেই পুরো সময় ছিলেন তিনি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে যাওয়ার পরপরই গতি কমে যায় বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায়। প্রায় বন্ধ হয়ে যায় দলের রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ড।

লন্ডনে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বসহ আগামী দিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলমান রাজনীতির পাশাপাশি অগোছালো দল, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাহী কমিটিসহ অনেক কিছু নিয়েই ছেলের সঙ্গে দীর্ঘ পরিকল্পনা করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পায় সাজাপ্রাপ্ত হলে বা অন্য কোনো কারণে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল পরিচালনার বিষয়টি। দলের নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করার কৌশল নিয়েও কথাবার্তা হয় মা-ছেলের মধ্যে। দলের সাংগঠনিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে দলীয় নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটিসহ ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন বিএনপি-প্রধান।

এদিকে শনিবার দেশে ফেরার পর গুলশান কার্যালয়ে অফিস করে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। গুরুত্বপূর্ণ কাজও সারেন তিনি। দলের কয়েকজন নেতাকে ডেকে কথা বলেন। পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন বেগম জিয়া। তবে এ নিয়ে দলের অবস্থান কী হবে, শিগগিরই দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি ২০-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি-প্রধান।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, বিএনপিকে এখন বেশ কয়েকটি বিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, কাউন্সিল, পৌর নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া, ৫ জানুয়ারি সরকারের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে সিদ্ধান্ত। এসব বিষয়ে এখনই সর্বস্তরের নেতা-কর্মীকে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচি জানাতে হবে ২০-দলীয় জোটকেও। তবে দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। নিষ্ক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত ‘তরুণ’ ও ‘ক্লিন’ ইমেজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশবাসীকে দেখাতে হবে নতুন কিছু। বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন ৫ জানুয়ারি সরকারের বর্ষপূর্তিতে এবার ২০ দলের করণীয় কী হবে- তা নিয়েও বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা পরিকল্পনা নিয়েছেন। তবে এবার বর্ষপূর্তির কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ‘গণতান্ত্রিক’ ও ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘ম্যাডাম দেশে ফিরেছেন। এখন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও গতি আসবে। আমাদের কাউন্সিলও করতে হবে। এ নিয়ে কাজও চলছে। আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাউন্সিল হতে পারে। তবে নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই বিএনপি আগামী দিনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা নেবে। পৌরসভা নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারেও একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’ জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান গতকাল ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার রিপোর্ট তুলে ধরেন। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে বেগম জিয়াকে অবহিত করেন। কার্যক্রম চালাতে গিয়ে কোথায় কোথায় তিনি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, সে রিপোর্টও তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্রমতে, পুনর্গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা একটি প্রতিবেদনও তৈরি করেছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দলের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের ১৭ জেলায় কেন্দ্রের নির্দেশ দেওয়ার পরও পুনর্গঠনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই এসব জেলার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে এসব জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দিতে পারেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা আছেন বা ভবিষ্যতে থাকতে চান তাদের জেলা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।

জানা যায়, লন্ডন সফরসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে খুব শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন খালেদা জিয়া। লন্ডন সফর নিয়ে সরকারের তির্যক মন্তব্য, পৌরসভা নির্বাচনসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে পারেন। চলমান পরিস্থিতিতে জাতীয় সংলাপের আহ্বানও জানাতে পারেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ নিয়ে ঐক্য গড়ার আহ্বানও জানাতে পারেন বিএনপি-প্রধান।

এদিকে দুই মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে অবস্থান করার পর দেশে এসে কী বার্তা দেবেন, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন নেতা-কর্মীরা। দল পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হলেও গণগ্রেফতারে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থেমে গেছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের কোনো কার্যক্রমও দেখা যাচ্ছে না। তবে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার হুলিয়া জারি থাকায় মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা দিশাহারা। এ অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন নেতা-কর্মীদের কী বার্তা দেবেন, তার অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, দল গোছানোই এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। আপাতত বড় ধরনের কোনো আন্দোলন কর্মসূচিতে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দল ও জোটকে যার যার অবস্থান থেকে শক্তিশালী করার বার্তা আসতে পারে। নতুন করে আবারও সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনমত সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ করে আসন্ন পৌর ও ইউপি নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে এ নিয়ে বিএনপির কিছু সুনির্দিষ্ট বক্তব্যও তুলে ধরা হবে। নির্বাচন কমিশনে দলের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দলও যেতে পারে শিগগিরই।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, ‘চিকিৎসা শেষে দলের চেয়ারপারসন দেশে ফিরেছেন। দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দ্রুত দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে চেয়ারপারসন আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ চলছে।’ তবে খালেদা জিয়া দেশে ফেরায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গতকাল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. এম ওসমান ফারুক, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন প্রমুখকে গুলশান কার্যালয়ে দেখা যায়। সর্বশেষ খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে এসেছিলেন ১৪ সেপ্টেম্বর।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন