Search
Tuesday 24 October 2017
  • :
  • :
English Version

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

Sharing is caring!

১৪ ডিসেম্বর,২০১৫

নিউজ ডেস্ক: এশিয়ানপোস্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা: আজ ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এই দিনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একের পর এক হত্যা করা হয়।

শিক্ষক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক বেছে বেছে জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যা করে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীরা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের তখন চূড়ান্ত পর্যায়। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী তখন প্রায় পর্যুদস্ত।

তখনি ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তালিকা ধরে বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘৃণ্যতম অপকর্মটি করে ঘাতক চক্র। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিজয়ী বাঙালি জাতি যাতে মেধাশূন্যতার কারণে ভবিষ্যতে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।

এ সময় সান্ধ্য আইনের মধ্যে রাতের আঁধারে তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে অপহরণ করে চোখ বেঁধে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

১৪ ডিসেম্বর চারদিকে যখন পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের রব, ঠিক তখনই পাকিস্তানি ঘাতকরা মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেন, আবুল খায়ের, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, মনিরুজ্জামান, আনোয়ার পাশা, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, রশিদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, ডা. আলীম উদ্দিন, ডা. ফজলে রাব্বি, নাজমুল হক, খন্দকার আবু তালেব, ডা. আমির উদ্দিন, সাইদুল হাসান প্রমুখ বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।

এ ছাড়া অনেক বুদ্ধিজীবীকে তুলে নিয়ে যায় হানাদাররা। যাদের আজ পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। এরপর থেকেই প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করে আসছে দেশবাসী।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা কত তা স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যে সংখ্যা দেয়া হয়েছে সে অনুযায়ী একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত বুদ্ধিজীবীদেরও হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর। তবে পরাজয়ে বাধ্য হওয়ায় তারা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাত্র কয়েকদিন আগে হানাদার বাহিনী পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে দেশকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে এ নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়।

এদিকে আজ পুরো জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে সেইসব সূর্যসন্তানকে- যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ, আমরা পেয়েছি স্বাধীন মানচিত্র। এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপন হচ্ছে দিবসটি।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। উড়বে শোকের প্রতীক কালো পতাকা। প্রতি বছরের মতো এবারো মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবী কৃতী সন্তানদের অবনত চিত্তে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আজ সকালে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। তারপর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি। যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ।

সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। এ ছাড়া সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে বিকাল ৩টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আওয়ামী রীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রের ন্যায় সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য দেশের সব শাখা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকেও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।