Search
Tuesday 24 October 2017
  • :
  • :
English Version

নলডাঙ্গা থানার আতঙ্ক ওসি সুবির দত্ত!

নলডাঙ্গা থানার আতঙ্ক ওসি সুবির দত্ত!

Sharing is caring!

নিউজ ডেস্ক : এশিয়ানপোস্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম

একসময় সবর্হারা আর বাংলা ভাইয়ের আতংকের জনপদের নাম ছিল নাটোরের নলডাঙ্গা । কিন্তু এখন বাংলা ভাই আর সর্বহারা না থাকলেও নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্তের চাঁদাবাজি আর নির্যাতনে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে ওসি সুবির দত্তের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা আইজিপি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও  কোন প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী। তবে সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে কিছু সংবাদ কর্মিদের নিয়ে ভুক্তভোগিদের কাছে ছুটে যান পুলিশ সুপার। পরে ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, খুলনা জেলার কয়রা থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন সুবির দত্ত।  নলডাঙ্গার থানার ওসি হয়ে গত বছরের ১২ আগষ্ট দায়িত্ব বুঝে নেন ওসি সুবির দত্ত। থানার ২১তম ওসি হিসেবে যোগদান করেন তিনি। যোগদানের পর থেকে শুরু হয় সাধারণ মানুষদের ওপর তার চাঁদাবাজি ও নির্যাতন।

ভুক্তভোগিরা জানান, কোন মামলা না থাকলেও মামলা রয়েছে বলে সাধারণ মানুষদের থানায় ধরে নিয়ে আসা ওসি সুবির দত্তের হুকুমে। এরপর  নাশকতা, ফেনসিডিল, ইয়াবা সহ বিভিন্ন মামলার ভয় দেখানো সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়েনেন তিনি। মোটা অংকের টাকা না দিলে ওই সব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও এমন হুমকি দেন ওসি সুবির দত্ত।

নলডাঙ্গা উপজেলার সমসখলসি গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি  দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। অর্থাভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। সম্প্রতি অন্যের কাছে পাওনা ৫ লক্ষ টাকা উত্তোলনের জন্য নলডাঙ্গা থানায় ওসির সাহায্য নিতে যান তিনি। কিন্তু সেই টাকা আদায় করতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ চান ওসি সুবির দত্ত। নিরুপায় নাজিম সেই ঘুষের টাকা দিয়েও পাওনা টাকা ফেরত পাননি।

ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন বলেন, পাওনা টাকা উত্তোলন তো দুরের কথা, বরং ওসির ঘুষের টাকা দিতে গিয়ে এখন তার চিকিৎসার খরচ হচ্ছে না। উল্টো আরো টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। চাহিদা মতো টাকা না দিলে মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে দেওয়া হবে বলে এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম লালু বলেন, তার নামে মামলা আছে বলে স্থানীয় মোমিনপুর বাজার থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু বিনা মামলায় ২ দিন থানায় আটকে রাখা হয়। পরে পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে দাবি করা হয় ৫০ হাজার টাকা। পরে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে সেদিনের মত রেহাই পান।

লালু আরো বলেন, ওসির দাবীকৃত টাকা না দিলে তাকে  নাশকতা সহ  ফেনসিডিল মামলা দিয়ে হাজতে পাঠানো হবে। এছাড়া আরো ১ লক্ষ টাকা আদায়ের জন্য বড় ভাই নায়েবুল ইসলামকে দিয়ে টাকা ধার নিয়েছে বলে স্ট্যাম্পে সই করিয়ে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শুধু নাজিম আর লালু নয়। নলডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ৪০ জনের কাছ থেকে এমন ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছে ওসি সুবির দত্ত। ওসির এমন চাঁদাবাজি আর হায়রানির বিষয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাইনি সাধারণ মানুষ। এমনকি ওসির চাঁদাবাজি আর নির্যাতনের অতিষ্ট হয়ে উঠেছে নলডাঙ্গার সাধারণ মানুষ।

নলডাঙ্গা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ওসি সুবির দত্ত নলডাঙ্গা থানায় যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন ভাবে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবী করে আসছে। ওসি বলেন, নলডাঙ্গায় থাকতে হলে চাঁদা দিয়ে থাকতে হবে। না হলে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সাবেক একজন জনপ্রতিনিধিকে এমনি ভাবে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবী করলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা।

আসাদুজ্জামান আসাদ আরো বলেন, ওসি সুবিরের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি আর নির্যাতনের বিষয়ে আইজিপি,ডিআইজ সহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। অবিলম্বে ওসি সুবিরকে প্রত্যাহার করে তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করেন তিনি।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্ত মোবাইল ফোনে জানান, নলডাঙ্গা থানায় তিনি যোগদান করার পর থেকে মাদক ,চাঁদাবাজি বন্ধ করেছেন। কিছু যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটানো হচ্ছে। কোন সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা নির্যাতন করা হয়নি।

এসময় তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজির টাকা শুধু তার পকেটে যায় না, খোদ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে মোটা অংকের টাকা পৌছে দিতে হয়।

এদিকে, ওসি সুবির দত্তের চাঁদাবাজি আর সাধারণ মানুষদের মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যমাল কুমার মুর্খার্জি সাংবাদিকদের কাছে অবহিত হন। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নলডাঙ্গার সমসখলসি গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগি শফিকুল ইসলাম লালু সহ বিভিন্ন জনের সাথে  ওসির চাঁদাবাজি আর মিথ্যা মামলা নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সুপার। এসময় ভুক্তভোগিরা ওসির হয়রানি আর চাঁদাবাজির কথা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।

এবিষয়ে পুলিশ সুপার শ্যমল কুমার মুর্খাজি বলেন, পুলিশ হচ্ছে জনগণের সেবক। পুলিশের দ্বারা সাধারণ মানুষ হয়রানি হবে এটা মেনে নেওয়া যায়না। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আরো তদন্ত করে ওসি সুবির দত্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।

সূত্র: পূর্ব পশ্চিম বিডি ডটকম