Search
Tuesday 24 October 2017
  • :
  • :
English Version

একুশে গ্রন্থমেলার সাফলতা কামনা!

একুশে গ্রন্থমেলার সাফলতা কামনা!

Sharing is caring!

boimela1454781610

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক:

দেখতে দেখতে অমর একুশে গ্রন্থমেলার কয়েকটা দিন কেটে গেল। মেলা শুরু হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি। এবার মেলায় কিছু ভিন্ন পরিবেশ দেখা গেছে। অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবার মেলার ব্যাপ্তি ও পরিসর বেড়েছে। স্টলগুলোও সাজানো হয়েছে অন্যবারের চেয়ে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। সবচেয়ে ভালো হয়েছে যে, মেলা এলাকায় রাস্তার দুই পাশের ফুটপাথজুড়ে নেই নানা পণ্যের দোকান। বাচ্চাদের খেলনা থেকে শুরু করে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়, এমন জিনিসের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোও নেই।

 

এবারই প্রথম বাংলা একাডেমি সবগুলো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণে নিয়ে এসেছে। রয়েছে পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা। মেলার ভেতরে প্রধান সংযোগ রাস্তা ইট দিয়ে বাধানো হয়েছে। এবার চারদিকে চারটি প্রবেশ ও বেরুনোর পথ রয়েছে। আগতরা মেলায় ঢুকতে গিয়ে যে অস্বস্তিকর ভোগান্তিতে পড়েন এবার তা দেখা যায়নি। প্রবেশ ও বেরুনোর চারটি পথ থাকায় সহজেই মেলায় ঢুকতে বা বেরুতে পারা যাচ্ছে। এজন্য বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।

 

গ্রন্থমেলায় লেখক, প্রকাশক, পাঠকের হাট বসে। তারা সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন এই মেলার জন্য। এখানে শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয় তা নয়, মেলা পরিণত হয় লেখক-প্রকাশক-পাঠক-দর্শণার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও প্রতিবছর বইমেলা হয় কিন্তু ঢাকার বইমেলার মতো এতো সময় নিয়ে (এক মাসজুড়ে) কোথাও হয় না। আমাদের গ্রন্থমেলার মতো আর কোনো মেলা পাঠক-লেখক-দর্শণার্থীদের ভালোবাসা জাগাতে পারে না। বলা যায়, বাঙালির প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব এই গ্রন্থমেলা। যা আমাদের চেতনা ও আবেগের সঙ্গে মিশে গেছে।

 

গ্রন্থমেলা এলে আমরা প্রায়ই একটা অভিযোগ শুনি। তা হলো লেখক-প্রকাশক বৈষম্য। লেখক বলেন প্রকাশকের বিক্রি ভালো, অন্যদিকে প্রকাশক বলেন লেখকের বই বিক্রি হয় না। আবার কোনো কোনো প্রকাশক কিংবা কোনো কোনো লেখকের ক্ষেত্রে প্রকাশকরা রয়্যালিটির ব্যাপারে অনেকটাই আন্তরিক ও স্বচ্ছ। প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও কর্মীরা তাদের পারিশ্রমিক পান। আর প্রকাশকরা পান লভ্যাংশ। তাহলে যারা লিখবেন অর্থাৎ লেখককেও এই শিল্পের শ্রমিক বা অংশীদার ভাবলে ক্ষতি কী? অন্ততপক্ষে লেখক আর প্রকাশকদের মাঝে এই দুরত্ব দূর করা জরুরি। কারণ, একুশের গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে আশায় থাকেন লেখকরা। আর প্রকাশকরাও চান এই মাসে সারা বছরের বিক্রির একটা বড় অংশ আয় করতে। তাই লেখক আর প্রকাশকদের এই বিষয়টা সমাধান করা জরুরি।

 

আমরা অনেকেই গ্রন্থমেলায় যাই দেখতে বা ঘুরতে। কিন্তু শুধু দেখলে বা ঘুরলেই চলবে না, অন্তত একটা বই কেনা উচিত। কারণ, বই মনকে আলোকিত করে। মানবিক গুণসম্পন্ন করে তোলে। বই স্বপ্ন দেখায়, শুভ চিন্তা জাগিয়ে তোলে। জ্ঞানের আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়। সেই আলোয় আমরা ভালো-মন্দ বিচার করতে পারি। স্বার্থপরতা ও মন্দ চিন্তাকে দূর করে ভালো মানুষ হয়ে উঠি। তাই বলব, আমরা গ্রন্থমেলায় যাবো, দেখব, ঘুরবো আর একটা বইও কিনব। দার্শনিক দেকার্তে বলেছেন, ‘ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সঙ্গে কথা বলা ।’

 

অমরা একুশে গ্রন্থমেলার সাফল্য কামনা করি।